ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার সঠিক নিয়ম কি | ভোটার এলাকা স্থানান্তরের নিয়ম

ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার সঠিক নিয়ম কি

ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার সঠিক নিয়ম কি সেই সম্পর্কে আমাদের আজকের এই পোস্ট। আজকের লেখায় আপনি জানতে পারবেন, ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন করার নিয়ম কি বা ভোটার এলাকা স্থানান্তর করার জন্য করনীয় কি।

চলুন বেশি কথা না বাড়িয়ে কিভাবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা যায়, ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে কতদিন সময় লাগে সেই সম্পর্কে জানিয়ে দেই। সেই সাথে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে কি কি কাগজের প্রয়োজন হবে সেইগুলোও জানিয়ে দেই।

আমাদের মধ্যে অনেকের বিভিন্ন কারনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বসবাস করতে যাওয়া লাগে। আর এজন্য তার ভোটার এলাকাও স্থানান্তর করতে হয়। ভোটার এলাকা স্থানান্তর করতে কি কি কাগজের প্রয়োজন হয় সেই সম্পর্কে ও অনেকে জানেন না।

ভোটার এলাকা পরিবর্তন বা ভোটার এলাকা স্থানান্তর করার নিয়ম সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের আজকের এই পোস্টটি। যাদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার প্রয়োজন ও ভোটার স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রয়জন তারা আমাদের লেখা পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। তাতে করে আপনাদের অনেক উপকার হবে।

আরও পড়ুন – টিকটক থেকে টাকা ইনকাম করার উপায়

ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার সঠিক নিয়ম

আমরা মানুষ জাতি অনেক বেশি কর্মব্যস্ত। কর্মব্যস্তার জন্য মানুষের সর্বদা একই স্থানে বসবাস করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এজন্য অনেকে আছেন যারা চাকুরি, পড়াশুনা বা নানান কাজের সুত্র ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করতে হয়। এজন্য তারা স্থায়ী ঠিকানায় ভোটার হতে পারেন না। অস্থায়ী ঠিকানায় না চাইতেও ভোটার হতে হয়। আর এজন্য একটা সময় অস্থায়ী ঠিকানা থেকে স্থায়ী ঠিকানায় স্থানান্তর হতে চায়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনি এখন যে ঠিকানায় বসবাস করছেন, এখান থেকে যদি অন্য জায়গায় বাস করতে যান তাহলে আপনার ভোটার এলাকা স্থানান্তর করতে হবে।

ভোটার এলাকা স্থানান্তর করার জন্য আপনাকে ভোটার এলাকা স্থানান্তর ফরম-১৩ পুরন করে আবেদন করতে হবে।

এই ভোটার এলাকা পরিবর্তন ফরম অফিস থেকে আপনাকে সরবরাহ করা হবে। ভোটার এলাকা পরিবর্তন ফরম অফিসের সামনের দোকান থেকেও পেয়ে যাবেন। তাছাড়া আপনি চাইলে অনলাইন থেকে ভোটার এলাকা স্থানান্তর ফরম ডাউনলোড করে পুরন করে জমা দিতে পারেন।

আরও পড়ুন – ফ্রিল্যান্সিং করে যে কাজে বেশি টাকা আয়

ভোটার এলাকা স্থানান্তর আবেদন ফরম পুরণ করার নিয়ম

অফিস থেকে ভোটার এলাকা স্থানান্তর আবেদন ফরম নিয়ে সেটি প্রথমে মন দিয়ে পড়ুন। এই ফরম পুরন করা খুবই সহজ। ভোটার এলাকা স্থানান্তর আবেদন ফরম পুরন করার নিয়মগুলো নিচে দেখানো হলো।

১. ফরমের ১নং ক্রমিক নাম্বারে আবেদনকারীর নাম বাংলায় লিখতে হবে।

২. ফরমের ২নং ক্রমিক নাম্বারে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার লিখতে হবে।

৩. ৩নং ক্রমিক নাম্বারে আবেদনকারীর জন্ম তারিখ লিখতে হবে।

৪. ৪নং ক্রমিক নাম্বারে আবেদনকারীর আগে যে ঠিকানার বাসিন্দা ছিলেন সেই ঠিকনা লিখতে হবে।

৫. ফরমের ৫ নং ক্রমিক নাম্বারে আপনি যে নতুন এলাকায় ভোটার হতে চাচ্ছেন সেই এলাকার নাম লিখতে হবে।

৬. ফরমের ৬ নম্বর ক্রমিক নাম্বারে আপনি নতুন ভোটার এলাকায় কত দিন বা কত বছর বাস করতে চান সেটি লিখবেন।

৭. ফরমের ৭ নং ক্রমিক নাম্বারে আপনি কেনো নতুন এলাকায় স্থানান্তর হতে চাচ্ছেন সেটি লিখতে হবে। নতুন এলাকায় ভোটার স্থানান্তর বিবাহ কারনেও হতে পারে। সেই কারনটিও আপনি লিখতে পারেন।

উপরে যে কয়টি তথ্য পুরন করতে হবে দেখতে পাচ্ছেন তার মধ্যে যদি ভোটার আইডি নাম্বার না জানা থাকে বা ভোটার এলাকা নাম্বার জানা না থাকে তাহলে লেখার দরকার নেই।

ভোটার এলাকার নাম, রাস্তার নাম, ঠিকানা সবকিছু প্রায় সময় এক থাকে। মাঝে মাঝে ক্ষেত্র বিশেষ ভিন্ন থাকে। সেইক্ষেত্রে ভোটার আইডি নাম্বার ও ভোটার এলাকা নাম্বার লিখতে হবে।

উদাহরণঃ

  1. জেলার নাম
  2. উপজেলার নাম
  3. ইউনিয়ন পরিষদ সিটি কর্পোরেশন/ পৌরসভা/
  4. ওয়ার্ড নম্বর
  5. ভোটার এলাকার নাম
  6. ভোর এলাকার নম্বর
  7. গ্রাম/ রাস্তার নাম এবং নম্বর
  8. বাসা/ হোল্ডিং নম্বর
  9. ডাকঘর
  10. পোস্ট কোড
  11. মোবাইল নম্বর

আপনার ভোটার এলাকার নাম ও গ্রামের নাম দুইটি আলাদা হতেই পারে। এটা কোন বড় ব্যাপার নয়। তাই সেই ক্ষেত্রে আপনাকে সঠিকটা মেনে দিতে হবে। আপনার যদি নতুন এলাকার ভোটার ঠিকানা জানতে সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে সেই এলাকার জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে সঠিক ঠিকানা জেনে নিন।

যদি আপনি নতুন ভোটার এলাকার ঠিকানা ভুল দেন তাহলে উপরে ৫ নম্বর ক্রমিকে যে ঠিকানা দিয়েছেন বা এতক্ষণ ধরে যত কষ্ট করছেন সবকিছু বৃথা হয়ে যাবে।

এবার ফরমের পিছনের পাতা হয়েছে। সেই পাতায় আবেদনকারীর নাম সহ স্বাক্ষর দিয়ে টিপসই দিতে হবে।

ভোটার এলাকা স্থানান্তর হতে কি কি কাগজ লাগবে | ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে যে কাগজপত্র জমা দিতে হবে

নতুন এলাকায় ভোটার এলাকা স্থানান্তর করতে কি কি পেপার বা ডকুমেন্ট এর প্রয়োজন হবে সেই সম্পর্কে ভোটার স্থানান্তর ফরম ১৩ এই ফরমে উল্লেখ করা রয়েছে। নতুর এলাকায় ভোটার স্থানান্তর হতে হলে কি কি ডকুমেন্টের প্রয়োজন হবে তা নিচে দেখানো হলো।

  1. চেয়ারম্যান/ পৌরসভা মেয়র/ কাউন্সিলর এর প্রত্যয়ন পত্র লাগবে।
  2. বাড়ীর বিদ্যুৎ বিল / গ্যাস বিল এর কপি।
  3. চৌকিদারি ট্যাক্স রশিদ/ পৌর করের রশিদ/ বাড়ী ভাড়ার রশিদ।
  4. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় পত্র এর ফটোকপি।

উপরে যে পেপার বা ডকুমেন্টস গুলো দেখতে পাচ্ছেন সেই গুলো ভোটার ফরম ১৩ এর সাথে পিন আপ করে দিতে হবে। তারপর ভোটার ফরম ১৩ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে।

নির্বাচন অফিসে জমা দেওয়ার পরে আপনার আবেদনপত্রে নিচের অংশ কেটে নেওয়া হবে। নিচের অংশ কেটে নেওয়ার পরে উপরের অংশ আপনাকে দিয়ে দিবে। আপনার আপনাকে একটা দিন বলে দিবে। সেই দিনে আবেদন ফরমের নিচের অংশ নিয়ে অফিসে যেয়ে জমা দিতে হবে। তারপর আপনার আবেদন সম্পূর্ন হলে নির্বাচন অফিস থেকে আপনাকে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে দিবে।

শেষ কথাঃ

আমরা উপরে আপনাকে জানিয়ে দিয়েছি ভোটার এলাকা স্থানান্তর করার জন্য করনীয় কি ও কি কি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো।

আপনি যদি নতুন এলাকায় স্থানান্তর হতে চান তাহলে উপরের নিয়ম মেনে ফরম টি পুরন করতে হবে ও নির্দিষ্ট কাগজপত্র ফরমের সাথে জমা দিতে হবে। এতক্ষণ banglait24.com এর সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

You May Also Like

About the Author: banglait24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *