এসএমএস মার্কেটিং কী | খুব সহজে এসএমএস মার্কেটিং কীভাবে করে

এসএমএস মার্কেটিং

বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে এসএমএস মার্কেটিং একটি সহজ ও ফল দায়ক মার্কেটিং। এসএমএস মার্কেটিং একটি নতুন ডিজিটাল মার্কেটিং। আজকের এই পোষ্টে আমরা ডিজিটাল এসএমএস মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। চলুন দেরি না করে আমাদের আজকের এই পোষ্ট টি শুরু করা যাক।

এসএমএস মার্কেটিং কীঃ

আমরা অনেকেই জানি এসএমএস মার্কেটিং কী, এটি কেন করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এসএমএস মার্কেটিং সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানি না। যারা জানেন না তাদের জন্য আজকের এই পোষ্ট টি। এসএমএস মার্কেটিং হলো এক প্রকার ডিজিটাল মার্কেটিং। যেখানে মোবাইলে টেক্সট ম্যাসেজ পাঠানোর মাধ্যমে মার্কেটিং করা হয়।

এটির বড় সুবিধা হলো কম খরচে সরাসরি অনেক কাস্টমার পাওয়া যায়। বর্তমানে অনেক বড় বড় কোম্পানি মোবাইলে এসএমএস পাঠানোর মাধ্যমে তাদের মার্কেটিং করে। স্পেশাল ডিল, সেল, ইভেন্ট ইত্যাদির প্রচারনার ক্ষেত্রে এসএমএস মার্কেটিং ব্যবহার করা যায়।

আরও পড়ুন – ব্লগিং করে টাকা আয় করার উপায়

এসএমএস মার্কেটিং কী ভাবে কাজ করেঃ

প্রথমে আপনাকে অনেক গুলো মোবাইল নম্বর যোগাড় করতে হবে। সেই নম্বর গুলোতে এসএমএস এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কুপন,স্পেশাল অফার ও অন্যান্য তথ্য পাঠাতে পারবেন। নম্বর গুলো আপনি সংগ্রহ করে রাখতে পারেন আপনার সাইটের সাইন আপ ফর্ম বা অন্য কোন সাইটে।

এসএমএস পাঠালে ব্যবহার কারী সেগুলো স্প্যাম হিসেবে ধরে না। এটি এসএমএস মার্কেটিং এর একটি বড় সুবিধা।

আপনার কোম্পানির জন্য এসএমএস মার্কেটিং কী ভালোঃ

আপনি সরাসরি এসএমএস মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনার কাষ্ঠমারদের কাছে পৌঁছাতে পারবেন এবং ইচ্ছা মতো মার্কেটিং করতে পারবেন। এজন্য আপনার কোম্পানির জন্য অবশ্যই একটি ভালো মাধ্যম। তুলনামূলক খরচও অনেক কম পড়বে। যেটির কারনে আপনি লাভবান হবেন।

আবার OTP, Confirmation message, Transactional message ইত্যাদি এসএমএস এর মাধ্যমে পাঠালে কোম্পানি আরো বিশ্বাস যোগ্য হয়ে উঠবে। এতে কোম্পানির ভালো হবে।

এসএমএস মার্কেটিং এর সুবিধা সমূহঃ

ইতোমধ্যে এসএমএস মার্কেটিং এর কিছু সুবিধা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আরো কিছু সুবিধা সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো –

(১) কম খরচেই এটি করা যায় তাই এটি বাজেট ফ্রেন্ডলি।

(২) এর মাধ্যমে আপনি সবচেয়ে বেশি ইম্প্রেশন পাবেন। অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি লোক আপনার এসএমএস দেখবে।

(৩) এসএমএস মার্কেটিং একটি অফলাইন মার্কেটিং সিষ্টেম এজন্য ইম্প্রেশন অনেক বেশি থাকে।

(৪) নতুন কাস্টমারদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে এসএমএস মার্কেটিং সবচেয়ে ফলদায়ক।

(৫) এসএমএস এর উপর মানুষ অনেক বেশি বিশ্বাস করে তাই সহজে কাস্টমার পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন – সেরা অনলাইনে ইনকাম বাংলাদেশী সাইট

কীভাবে এসএমএস মার্কেটিং করবেনঃ

কয়েকটি শব্দের এলোমেলো এসএমএস পাঠালেই আপনি কাষ্টমার পাবেন না। এর জন্য আপনাকে অনেক বিষয় সম্পর্কে ধারনা রাখতে হবে। নিচে সেগুলো আলোচনা করা হলো।

আপনি একটি এসএমএস একসাথে অনেক গুলো লোকের কাছে পৌঁছবেন। একটি ফলদায়ক এসএমএস ক্যাম্পেইন তৈরি করুন। আপনাকে এসএমএস টি এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যাতে মানুষের পছন্দ হয়। এরকম ভালো ধরনের এসএমএস তৈরি করার জন্য আপনাকে নিম্নোক্ত বিষয় গুলো অনুসরণ করতে হবে

(১) আপনাকে এসএমএস যথাসম্ভব ছোট ও আকর্ষনীয় করে তুলতে হবে।

(২) একটি সেরা এসএমএস টুল বাছুন।

(৩) ক্যাম্পেইনের উপর সর্বদা নজর রাখুন।

(৪) আগের ক্যাম্পেইনের ভুল গুলো পরের ক্যাম্পেইনে তুলে ধরুন।

একটি ফলদায়ক এসএমএস কী ভাবে তৈরি করবেনঃ

আপনি যদি ভালোভাবে এসএমএস লিখতে পারেন তাহলে একটি ক্যাম্পেইনেই অনেক গুলো কাস্টমার পেয়ে যাবেন। এর ফলে আপনি ভালো ফলাফল পাবেন এবং টাকা কম খরচ হবে। এসএমএস তৈরি করার কিছু উল্লেখ যোগ্য টিপস নিচে দেওয়া হলো –

(১) আপনার টার্গেট অর্ডিয়েন্সের কথা ভেবে একটি সিগমেন্ট তৈরি করুন।

(২) একটি CTA (call to action) ব্যবহার করুন।

(৩) এসএমএস যথাসম্ভব কম শব্দের করুন।

(৪) প্রতিটি সিগমেন্টের জন্য আলাদা করে এসএমএস লিখুন।

(৫) সঠিক বানান, ব্যকরণ এবং সহজ সরল ভাষা ব্যবহার করুন।

এভাবে আপনি সুন্দর করে এসএমএস লিখতে পারবেন।

একটি এসএমএস মার্কেটিং টুল বাছুনঃ

যে সফটওয়্যার বা ওয়েব সাইটের মাধ্যমে আপনি এসএমএস পাঠানো, ট্র্যাকিং ইত্যাদি করতে পারবেন তাকে এসএমএস মার্কেটিং টুল বলে। কিন্তু সঠিক টুল বাছাই করে আপনাকে ভালোভাবে মার্কেটিং করতে হবে। বর্তমানে ইন্টারনেটে অনেক এসএমএস মার্কেটিং টুল রয়েছে।

তবে সঠিক টুল বাছাই করতে আপনাকে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। বর্তমানে এমন কিছু টুল রয়েছে যেগুলো নতুন কোম্পানির জন্য অনেক লাভজনক।

সঠিক সময়ে এসএমএস তৈরি করুনঃ

একজন মানুষ সবসময় মোবাইল নিয়ে বসে থাকে না। তাই এমন টাইমে এসএমএস দিতে হবে যাতে করে সবাই সক্রিয় থাকতে পারে। যেমন সকালের নাস্তা করে সবাই একটু ফোন ব্যবহার করে আবার রাতে প্রায় সবাই ফোন ব্যবহার করে।

এভাবে আপনি সবার আচরন পর্যবেক্ষন করে সঠিক সময়ে এসএমএস পাঠাতে পারেন। আপনি আগের বিষয় গুলো জানার মাধ্যমে আইডিয়া নিতে পারেন।

যে ভুল গুলো আপনার এড়িয়ে চলা উচিতঃ

একটি সফল ক্যাম্পেইন চালানোর জন্য আপনাকে অনেক বিষয় মাথায় রাখতে হবে। একটু ছোট ভুল করলেই আপনার অনেক গুলো কাস্টমার চলে যেতে পারে। নিচে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলো যেগুলো আপনার এড়িয়ে চলতে হবে –

(১) অতিরিক্ত শব্দের ব্যবহার করে SMS লিখবেন না।

(২) CTA ব্যবহার না করা।

(৩) রেজাল্ট এর দিকে সর্বদা নজর রাখতে হবে।

(৪) অতিরিক্ত SMS প্রেরন করবেন না।

(৫) অসময়ে SMS প্রেরন না করা।

(৬) কম শব্দের একটি অসাধারন SMS লেখার চেষ্টা করবেন।

শেষ কথাঃ

এসএমএস মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনি অনেক বেশি কাস্টমার পাবেন। তবে আপনাকে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। অতিরিক্ত এসএমএস প্রেরন করা যাবে না। একটা নির্দিষ্ট সময়ে এসএমএস প্রেরন করতে হবে। সপ্তাহে ২ টি এসএমএস প্রেরন করাই শ্রেয়। আপনি অতি দ্রুত আপনার কোম্পানিকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাইলে এসএমএস মার্কেটিং আপনার কাছে সেরা অপশন হতে পারে।

আশা করছি আজকের এই আর্টিকেল থেকে আপনি সম্পূর্ণ ধারনা পেয়েছেন। এরকম নতুন নতুন তথ্য জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। এতোক্ষণ সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

You May Also Like

About the Author: banglait24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *